নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন—জিসাসের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জিসাসের পরিচিতি ও আলোচনা সভাতেও তাঁর নেতৃত্বের বিষয়টি উঠে আসে।
২০২৬ সালের মে মাসে সুনামগঞ্জ জেলা জিসাসের কমিটি অনুমোদনসংক্রান্ত একটি সংবাদেও কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে কেয়া চৌধুরীর নাম প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শাওন আশরাফের স্বাক্ষরে সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জিসাস মূলত সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে জিসাসের পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরীর উপস্থিতি ও নেতৃত্বের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পায়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সংগঠনের কমিটি গঠন ও অনুমোদনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কাঠামোর অধীনে সংগঠনটির সাংগঠনিক পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
২০২৬ সালের ৯ মে প্রকাশিত সুনামগঞ্জের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে জেলা জিসাসের নতুন কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে মছিহুর রহমান রাসেলকে সভাপতি এবং তোফায়েল আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শাওন আশরাফের স্বাক্ষরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ নভেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে অবস্থিত অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটিতে ইকরামুল হাসান সোহেলকে সভাপতি এবং মো. শাহ জালালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে তুহিন চৌধুরীকে সভাপতি এবং রেহেনা খানমকে সাধারণ সম্পাদক করার কথা জানানো হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাওন আশরাফের উপস্থিতিতে কমিটি অনুমোদনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জিসাসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে কেয়া চৌধুরীর সম্পৃক্ততার পাশাপাশি তাঁর চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচয়ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংগঠনটির অনুষ্ঠানসংক্রান্ত প্রতিবেদনে তাঁকে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং জিসাসের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিনয় ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সম্পৃক্ততা সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন সাংগঠনিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী ও সংগঠকদের একত্রিত করে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। জিসাসের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কমিটি গঠনসংক্রান্ত খবরেও এমন সাংগঠনিক তৎপরতার চিত্র পাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের স্বাক্ষরের তথ্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সভাপতির সভাপতিত্বের বিষয়টি সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো আরও সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে ধারণা করা যায়।
তবে জিসাসের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও দাবি প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত বা প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতপার্থক্য বা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলো থেকে দেখা যায়, জিসাসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশের আরও বিভিন্ন এলাকায় কমিটি গঠন এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
কেয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে কীভাবে এগিয়ে যায়, সেটি এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিভাবানদের সুযোগ তৈরি করা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরীকে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন—জিসাসের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কমিটি গঠন ও অনুমোদনের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি অনুমোদনের সংবাদে তাঁর স্বাক্ষরের উল্লেখ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণায় তাঁর সভাপতিত্বের তথ্য সংগঠনটির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে।
আগামী দিনে জিসাসের সাংগঠনিক বিস্তার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জেলা-মহানগর পর্যায়ের কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, তার ওপরই সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের পরিধি অনেকটা নির্ভর করবে।
MOHAMMAD MOINUDDIN